🔍

首頁 > 新聞報導> 2024年> বাংলাদেশী নৌকাস্কুল উদ্ভাবক পেলেন নোবেল লাইফ প্রাইজ

বাংলাদেশী নৌকাস্কুল উদ্ভাবক পেলেন নোবেল লাইফ প্রাইজ

 
  • ১৪ অক্টোবর ২০২৪, ০৩:২০
 

স্থপতি মোহাম্মদ রেজোয়ান তাইওয়ানের সর্বোচ্চ সম্মানের অন্যতম, ‘গ্লোবাল লাভ অব লাইভস অ্যাওয়ার্ডস’ পেলেন। ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা’র চিন্তা থেকে স্থপতি রেজোয়ান নৌকাস্কুল উদ্ভাবন করে দেশে-বিদেশে সাড়া ফেলেন। তারই স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ২৭তম ‘গ্লোবাল লাভ অব লাইভস অ্যাওয়ার্ডস’ এর বিজয়ীদের একজন হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। পুরস্কারটি মানুষের জন্য নিঃস্বার্থ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বিশ্বব্যাপী দেয়া হয়।
দীর্ঘ সময় ধরে নৌকা স্কুলের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে শিক্ষাসুবিধা দেয়ায় রেজোয়ানকে ‘মেডেল অব অ্যাচিভমেন্টস’ বিভাগে সম্মানিত করা হয়েছে। ১৯৯৮ সাল থেকে তাইওয়ানের চো তা-কুয়ান কালচারাল অ্যান্ড এডুকেশনাল ফাউন্ডেশন এই পুরস্কারটি দিয়ে আসছে, যা ‘নোবেল লাইফ প্রাইজ’ নামেও পরিচিত।
২৭ সেপ্টেম্বর রিপাবলিক অব চায়না (তাইওয়ান) এর প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তা তার কার্যালয়ে রেজোয়ান ও অন্যান্য পুরস্কার বিজয়ীকে সম্মানিত করেন। এ সময় প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘স্থপতি হিসেবে রেজোয়ান জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানোর একটি সমাধান তৈরি করেছেন, যা বিশ্বকে উপকৃত করছে। তার ভাসমান স্কুলশিশুদের জন্য আশার সঞ্চার এবং শিক্ষা লাভের সুযোগ নিশ্চিত করেছে।’

১৬ সদস্যের জুরি সারা বিশ্ব থেকে মনোনীত ৩,৪৯৯ প্রার্থীর মধ্য থেকে রেজোয়ানকে নির্বাচিত করেন। পুরস্কার পাওয়ার পর অভিব্যক্তি জানিয়ে রেজোয়ান বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণের মতো তাইওয়ানের জনগণও রেসিলিয়েন্ট, প্রতিটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরে তারা তাদের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পুনর্নির্মাণ করেছে। তারা আমাদেরকে ফরমোসার (সুন্দর দ্বীপ) নদীতে একটি নৌকাস্কুল তৈরি করতে বলেছে। আমরা বাংলাদেশীরা এভাবে আরো অনেক জীবন বদলে দেয়া সৃজন-উদ্ভাবনের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর নানান সঙ্কটের সমাধান বের করতে সক্ষম হবো।’
২০০২ সালে রেজোয়ান চলনবিলের অথৈ পানিতে ভাসান তার অনবদ্য উদ্ভাবন ‘নৌকাস্কুল’। তার নৌকায় ডিজিটাল শ্রেণিকক্ষের পাশাপাশি রয়েছে ভাসমান লাইব্রেরি, খেলার মাঠ ও স্বাস্থ্যসেবা ক্লিনিক এবং কিশোরী-তরুণীদের জন্য রয়েছে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। রেজোয়ানের এই অনন্য উদ্ভাবনটি আজ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে আরো আটটি দেশে।
২০১০ থেকে অন্যান্য সংগঠনও নৌকাস্কুল ধারণাটি নিয়ে কাজ শুরু করে এবং একই ধরনের সেবা দিচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার তার এ উদ্ভাবনকে জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনায় (২০২৩-২০৫০) অন্তর্ভুক্ত করেছে। এটি আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেয়েছে ইউনিসেফ, ইউএনইপি ও ইউএনডিপির মতো জাতিসঙ্ঘের বিভিন্ন তহবিল ও কর্মসূচির কাছ থেকে। ২০১৯ সালে প্রকাশিত ‘আথ হিরোস’ নামের প্রখ্যাত ব্রিটিশ গ্রন্থে বিশ্বের ২০ জন ‘আথ হিরো’র তালিকায় লিপিবদ্ধ হয়েছে রেজোয়ানের নাম। যুক্তরাষ্ট্র. যুক্তরাজ্য, জাপান, তাইওয়ানসহ বিশ্বের নানা দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্লাসের পাঠ্যপুস্তকে রেজোয়ান ও তার ভাসমান স্কুল বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।


Top | Back